নতুন নির্মিত সেতুগুলোতে ‘এক্সট্রা ডিস্ট্যান্স অব পন্টেজ চার্জ’ আরোপ করে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত নেয়া শুরু করেছে রেলওয়ে। কিন্তু এবার দীর্ঘদিনের পুরনো সেতু, কালভার্টেও পন্টেজ চার্জ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এ সিদ্ধান্তের আলোকে পূর্বাঞ্চল রেলে নতুন করে ২০টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ (রক্ষণাবেক্ষণ মাসুল) আরোপ করলে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ভাড়া বাড়বে ২২৬ টাকা।
তবে পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি বৃহৎ সেতুতে আগেই চার্জ আরোপ হওয়ায় আপাতত পশ্চিমাঞ্চল রেলের ভাড়া বাড়ছে না। পূর্বাঞ্চলের ১০০ মিটার বা ১০০ মিটারের বড় সেতুগুলোয় বাড়তি চার্জ আরোপের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেও পশ্চিমাঞ্চলের সিদ্ধান্তটি আপাতত বাস্তবায়ন করবে না রেলওয়ে।
দীর্ঘদিন ধরে রেলের ভাড়া বাড়েনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আগে কয়েক দফায় ভাড়া বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হলেও জনরোষের আশঙ্কায় সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে রেলওয়ে পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে আয় সমন্বয় করতে বিকল্প পরিকল্পনা হাতে নেয়। রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার, এক্সট্রা কোচের শতাংশ হিসেবে বাড়তি ভাড়া, আসন সংরক্ষণ টিকিটে বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর টিকিটে ভ্যাট যুক্ত করে। এরপর সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এক্সট্রা ডিস্ট্যান্স অব পন্টেজ চার্জ আরোপ শুরু করে।
পদ্মা সেতুতে ট্রেন সার্ভিস চালুর সময় সেতুর প্রতি কিলোমিটারকে ২৫ কিলোমিটার হিসেবে গণনা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ওই সময়ে অবকাঠামোর ভায়াডাক্টের প্রতি কিলোমিটারকে পাঁচ কিলোমিটার হিসেবে গণনা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সময়ে রেলওয়ে সারা দেশের ১০০ মিটারের ঊর্ধ্বে বিভিন্ন সেতু, কালভার্টে পন্টেজ চার্জ আরোপ করতে নির্দেশনা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন সার্ভিস চালু হলে বেশ কয়েকটি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়। এখন সারা দেশের সব ১০০ মিটারের চেয়েও বড় সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করতে যাচ্ছে রেলওয়ে। এতে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের ট্রেনগুলোর যাত্রী ভাড়া (আন্তঃনগর ট্রেন) সর্বনিম্ন ৪৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। রেলওয়ের চূড়ান্ত এ নতুন ভাড়া মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রেলের এ-সংক্রান্ত তথ্যে দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চলের ২৮টি সেতুর দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার বা ১০০ মিটারের বেশি। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ১০০ মিটার দৈর্ঘ্য রয়েছে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া স্টেশনের মধ্যবর্তী ৬৬/৬-৭ নং সেতুর। প্রতি কিলোমিটার পন্টেজ চার্জ ২৫ কিলোমিটার হিসাবে এ সেতুর পন্টেজ দূরত্ব হয় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার। তবে রাউন্ড হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কিলোমিটার। চট্টগ্রামের গোমদণ্ডী-জান আলীহাটের মধ্যবর্তী কালুরঘাট সেতুর ৬৪০ মিটারের পন্টেজ দূরত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১৬ কিলোমিটার। তবে পূর্বাঞ্চলের রামু-কক্সবাজারের মধ্যবর্তী ১৩৬/৯-১৩৭/০ নং সেতুর ১৬৪ মিটার সেতুর দূরত্ব ৫ কিলোমিটার, ইসলামাবাদ-রামুর মধ্যবর্তী ১২০/৬-৭ নং সেতুর ৩ কিলোমিটার, চকরিয়া-ডুলাহাজারার মধ্যবর্তী ৯৬/৭-৮ নং সেতুর ৬ কিলোমিটার, হারবাং-চকরিয়ার মধ্যবর্তী ৯১/৪-৫ নং সেতুর ৪৮০ মিটারকে ১২ কিলোমিটার, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মধ্যবর্তী ৬৬/৬-৭ নং সেতুর ৩ কিলোমিটার, দোহাজারী-সাতকানিয়ার মধ্যবর্তী ৪৭/৪-৫ নং সেতুর ৭ কিলোমিটার, আশুগঞ্জ-ভৈরবের মধ্যবর্তী ২৩১/৫-২৩২/৫ নং সেতুর ২৩ কিলোমিটার, শম্ভুগঞ্জ-ময়মনসিংহের মধ্যবর্তী ৩৪৭/৪-৮ নং সেতুর ৭ কিলোমিটার পন্টেজ দূরত্ব নির্ধারণ করে এরই মধ্যে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে রেলওয়ে।
এছাড়া কেরানীগঞ্জ-গেন্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ-নিমতলা, নিমতলা-শ্রীনগরের চারটি সেতুর ভায়াডাক্ট-১-এর কিলোমিটারপ্রতি ৫ কিলোমিটার হিসাবে পন্টেজ চার্জ আরোপ করবে রেলওয়ে। এজন্য প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পন্টেজ দূরত্ব হিসেবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করবে রেলের বাণিজ্যিক বিভাগ।
এদিকে পূর্বাঞ্চলের ১০০ মিটার বা ১০০ মিটারের বড় সেতুগুলোতে বাড়তি চার্জ আরোপের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেও পশ্চিমাঞ্চলের সিদ্ধান্তটি আপাতত বাস্তবায়ন করছে না রেলওয়ে। কয়েক বছর আগে পদ্মা সেতুতে ট্রেন সার্ভিস চালুর সময় পদ্মা সেতুসহ পাঁচটি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করে রেলওয়ে। পদ্মা সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের স্থলে ১৫৪ কিলোমিটার, যমুনা সেতুর ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারের স্থলে ১২০ কিলোমিটার, রূপসা সেতুর ৭১৬ দশমিক ৮ মিটারের স্থলে ১৮ কিলোমিটার, মধুমতি সেতুর ১ দশমিক ২০০ কিলোমিটারের স্থলে ৩০ কিলোমিটার এবং হার্ডিঞ্জ সেতুর ১ দশমিক ৭২০৯ কিলোমিটারের স্থলে ৪৪ কিলোমিটার পন্টেজ দূরত্ব হিসাবে করে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে রেলওয়ে। এতে তুলনামূলক বেশি ভাড়া আদায় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এ কারণে পূর্বাঞ্চলের ২০টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও পশ্চিমাঞ্চলের ১০০ মিটারের অধিক আরো ৩৯টি সেতুতে এ সিদ্ধান্ত আপাতত বাস্তবায়ন করছে না রেলওয়ে।
রেলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রেলের চূড়ান্ত ভাড়া আরোপ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের সাধারণ আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ার টিকিটের ভাড়া ৪০৫ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৪৫০ টাকা, প্রথম সিটের ভাড়া ৬৪ টাকা বেড়ে ৬৮৫ টাকা, স্নিগ্ধার ভাড়া ৮০ টাকা বেড়ে ৮৫৭ টাকা, প্রথম বার্থ ও এসি সিটের ভাড়া ৯৮ টাকা করে বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ৮০ ও ১ হাজার ৩০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ১৪৩ টাকা বেড়ে হবে ১ হাজার ৫৯১ টাকা। একই রুটের নন-স্টপ ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৪৯ টাকা বেড়ে হবে ৪৯৫ টাকা, প্রথম সিটের ভাড়া ৬৯ টাকা বেড়ে ৭৫৩ টাকা, স্নিগ্ধার ভাড়া ৮৮ বেড়ে ৯৪৩ টাকা, প্রথম বার্থ ও এসি সিটের ১০৮ টাকা হারে বেড়ে হবে যথাক্রমে ১ হাজার ১৩৩ ও ১ হাজার ৭৪৬ টাকা।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের সাধারণ আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়া শোভন চেয়ারে ৬০ টাকা বেড়ে ৬৯০ টাকা, প্রথম সিটের ৯২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫৩ টাকা, স্নিগ্ধার ১১৫ বেড়ে ১ হাজার ৩১৭ টাকা, প্রথম বার্থ ও এসি সিটের ১৩৮ বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ৬৩২ ও ১ হাজার ৫৮২ টাকা এবং এসি বার্থের ২০৭ টাকা বেড়ে ভাড়া হবে ২ হাজার ৪১৯ টাকা। অন্যদিকে একই রুটের নন-স্টপ আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬৪ টাকা বেড়ে ৭৫৯ টাকা, প্রথম সিটের ১০১ টাকা বেড়ে ১ হাজার ১৫৮ টাকা, স্নিগ্ধার ১২৭ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪৪৯ টাকা, প্রথম বার্থের ১৫১ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৭৯০ টাকা, এসি সিটের ১৫০ বেড়ে ১ হাজার ৭৪০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ২২৬ টাকা বেড়ে প্রতিটি আসনের যাত্রীপ্রতি নতুন ভাড়া হবে ২ হাজার ৬৫৬ টাকা।
রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তঃনগরের পাশাপাশি সাধারণ ট্রেনগুলোর মেইল ও কমিউটার ট্রেনের ভাড়াও বাড়বে। এক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের সাধারণ মেইলের ভাড়া ১৫ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা এবং কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা হবে। সেতুর পন্টেজ চার্জ বাড়ানোর ফলে পর্যায়ক্রমে পণ্যবাহী ট্রেন ও বেসরকারি পরিচালনাধীন ট্রেনগুলোর ভাড়াও বাড়াবে রেলওয়ে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর পণ্য ও বেসরকারি ট্রেনগুলোর ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিভিন্ন ধাপে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর পর আবারো পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে যোগাযোগ করে মন্তব্য চাওয়া হলেও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনকে পাওয়া যায়নি।
তবে রেলওয়ের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, সরকার রেলের আয় বাড়াতে তৎপর। আয়ের বিপরীতে ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় আয়-ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এ কারণে সরাসরি ভাড়া না বাড়ালেও রেলওয়ে আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকর বের করে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রেলওয়েতে একসময় ১০০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেয়াত ছিল। সেটি উঠিয়ে দিয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এখন সেতুর ওপর পন্টেজ চার্জ আরোপের মাধ্যমে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর ভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
তবে রেলওয়েসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ, রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে রেলের ভাড়া এমনিতে বেড়েছে। এখন দেশের প্রধানতম রেল অঞ্চল পূর্বাঞ্চলের ২০টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ হলে যাত্রী ভাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়ে যাবে। বড় অবকাঠামো ও বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পন্টেজ চার্জ আরোপের নিয়ম থাকলেও ২০টি সেতুর অধিকাংশই দীর্ঘদিনের পুরনো। এসব সেতুতে পন্টেজ চার্জ ও ভায়াডাক্ট-১ চার্জ আরোপ করার মাধ্যমে রেলকে বেসরকারি গণপরিবহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ফেলা হচ্ছে। পূর্বাঞ্চলে কনটেইনার, জ্বালানি, খাদ্যশস্য, নির্মাণসামগ্রীসহ চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে আমদানি-রফতানির পণ্য পরিবহন হয় রেলপথে। এভাবে বারবার ভাড়া বাড়ানোর ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকারগুলো ভোটের রাজনীতির চিন্তা থেকে দীর্ঘদিন ভাড়া বাড়ায়নি। কিন্তু প্রায় এক দশকে মুদ্রাস্ফীতিসহ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে রেলওয়ের লোকসান বেড়ে গেছে। রেলের মতো একটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সংস্থার সেবা বাড়ানো হলেও দিনের পর দিন লোকসানে থাকবে এটা ঠিক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারও সরাসরি ভাড়া বাড়ানোর পক্ষে না। এজন্য আমরা বিকল্প কিছু উপায়ে ভাড়া সমন্বয় করে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এজন্য নন-অপারেটিং খাতকেও অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া পূর্বাঞ্চলের অনেকগুলো সেতুতে পন্টেজ চার্জ নেই, কিছু কিছু সেতুতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চার্জ রয়েছে। ২০১৬ সালের পর রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। সার্বিকভাবে সরাসরি রেলের ভাড়া বৃদ্ধি না করে পন্টেজ চার্জের মাধ্যমে আয় বাড়াতে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’